ভোর ৫:২৩ | ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ শুক্রবার হেমন্তকাল | ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
Smiley face
বাংলা চলচ্চিত্র ২০২০-০১-০৭
happy akhand- bangla cholochitra

শেয়ার করুন

বাংলা চলচ্চিত্র/মঞ্চ ও টেলিভিশনঃ

 

হ্যাপি আখন্দ একজন গায়ক, গীতিকার, গিটারিস্ট,সুরকার ও সংগীত পরিচালক।

যাকে বাংলাদেশী সঙ্গীতের বরপুত্র বলা হত। তিনি আর ডি বর্মণ,আববাসউদ্দীন,মান্না দে, সমর দাশের মতো সংগীতজ্ঞের প্রশংসা আর স্নেহ অর্জন করেছিলেন নিজ যোগ্যতায়।

হ্যাপি আখন্দের জন্ম হয় ঢাকার পাতলা খান লেনে ১২ অক্টোবর, ১৯৬৩।

জন্মের সময় তাঁর ভাই লাকী আখান্দ তাঁর হাতে একটি পয়সা গুজে দিয়েছিলেন এবং প্রায় ৪-৫ দিন পর তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পরও তাঁর হাতে গুজে দেওয়া পয়সাটা ছিল।

ছোটবেলায় ভাত খাওয়ার সময় তিনি কাকদের ডেকে ডেকে ভাত খাওয়াতেন। তিনি কোন বিষয় সম্পর্কে একবার শুনলেই মুখস্থ করে ফেলতেন।

মাত্র ১০ বছর বয়সে তাঁর হাতে গিটারের তাল ধরিয়ে দেয়। শুরুর দিকে হ্যাপী আখন্দ ভাই লাকী আখন্দের সাথে বিভিন্ন কনসার্টে অংশ নিতেন তবলা বাজানোর জন্য।

হ্যাপি আখন্দ ‘উইন্ডি সাইড অব কেয়ার’ নামে একটি ব্যান্ড গড়েছিলেন যা ছিল একটি পাকিস্তানি ব্যান্ড।

সেখানে তিনি দক্ষ হাতে গিটার বাজানোর পাশাপাশি গানও গাইতেন।কলকাতার মধু মুখার্জি ছিলেন তাঁর ছাত্র।

১৯৭৫ সালে ‘আবার এলো যে সন্ধ্যা’ গানটি লিখেছিলেন এসএম হেদায়েত এবং সুর করেছিলেন লাকী আখন্দ।

এই গানটির সংগীত আয়োজন করে হ্যাপি আখন্দ বাংলাদেশ টেলিভিশনে গেয়েছিলেন। লাকী আখন্দের সাথে হ্যাপির বয়সের ব্যবধান বড়জোর ১০ বছরের হলেও তাঁরা ছিলেন বন্ধুর মতো।

১৯৭২ এর পর ২১ শে ফেব্রুয়ারি ২৬ শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর এর মতো জাতীয় উৎসবগুলোতে গণসঙ্গীত পরিবেশন করতো হ্যাপী।

হ্যাপি আখন্দের গাওয়া জনপ্রিয় গান হলো ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’,

‘কে বাঁশি বাজায় রে’,

‘খোলা আকাশের মতো তোমাকে হৃদয় দিয়েছি,

‘নীল নীল শাড়ি পরে’, ‘পাহাড়ি ঝরনা’,

‘এই পৃথিবীর বুকে আসে যায়’,

‘স্বাধীনতা তোমায় নিয়ে গান তো লিখেছি’।

তাঁর সংগীত আয়োজনে ফেরদৌস ওয়াহিদের গাওয়া ‘এমন একটা মা দে না’, প্রয়াত ফিরোজ সাঁইয়ের গাওয়া ‘ইশকুল খুইলাছে রে মাওলা’ গানগুলো ওই সময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

সংগীত পরিবারে জন্ম নেওয়ার ফলে বাবা এবং বড় ভাই লাকী আখন্দের কাছ থেকে পেয়েছেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীতজ্ঞান।

আবেশী কণ্ঠস্বরের সঙ্গে সঙ্গে গিটার, পিয়ানো, তবলাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সহজাত দক্ষতায় বিস্মিত করেছিল সেই সময়ের শ্রোতা ও শিল্পীদের।

হ্যাপী আখন্দ সম্পর্কে সঙ্গীতজ্ঞ লাকী আখন্দ বলেন, ‘হ্যাপির সংগীত-প্রতিভা ছিল আক্ষরিক অর্থেই বিস্ময়কর।

সংগীতের প্রতি তাঁর একাগ্র নিষ্ঠা আর ভালোবাসার পাশাপাশি স্রষ্টা প্রদত্ত কিছু সহজাত গুণাবলি ও দক্ষতার কারণে আমরা যারা একই সময়ে সংগীত চর্চা করতাম, তাদের সবার মধ্যে ও ছিল সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল।

নিজের সুরেলা কণ্ঠের জাদুতে হ্যাপি শ্রোতাদের হূদয়ের সব বন্ধ জানালা খুলে দিতে পারতেন। গিটার, পিয়ানো, তবলা যা-ই বাজাতেন, এক অদ্ভুত ভালোলাগার জন্ম দিতে পারত তাঁর সংগীত।

পৃথিবীর নানা ধাঁচের সংগীত শুনে শুনে ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীদের সান্নিধ্যে অর্জিত সংগীতের নানা জ্ঞান ও দর্শন অকাতরে বিলিয়ে দিতেন নিজের বন্ধুপ্রতিম সহশিল্পী আর ছাত্রদের মধ্যে।

সেই সঙ্গে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ও নতুনত্ব আনতে হ্যাপি তাঁর উদ্ভাবনী শক্তিকে সব সময় কাজে লাগাতেন।

একবার কলকাতার এইচএমভি সংগীত প্রযোজনা সংস্থার একটি গানের রেকর্ডিংয়ে আমি, হ্যাপি ও আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল কাজ করছিলাম।

হ্যাপি তবলা বাজানোর সময় শুধু তবলার “বায়া” দিয়ে অদ্ভুত সুন্দর তাল বাজাতে পারতেন।

এইচএমভির তৎকালীন পরিচালক কলিম শরাফী রেকর্ডিং রুমে ঢুকে অবাক হয়ে হ্যাপির বাজানো দেখছিলেন।

হ্যাপির সংগীত সবাইকে আনন্দ দিলেও তাঁর নিজের জীবন কেটেছে অনেক অভিমান আর কষ্টে।’

২৮ শে ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে তিনি অকালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

বাংলা চলচ্চিত্র/banglacholochitra/মঞ্চ ও টেলিভিশন, কৃতজ্ঞতা ও তথ্য সংগ্রহঃ ধ্রুব আহসান।ছবি- সংগৃহীত।

 

Leave a comment.

Your email address will not be published. Required fields are marked*