রাত ৪:০২ | ১৪ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ শুক্রবার হেমন্তকাল | ৩০শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
Smiley face
বাংলা চলচ্চিত্র ২০২০-০১-০৪
haajjj- bangla cholochitra

শেয়ার করুন

বাংলা চলচ্চিত্র/ জীবনযাপনঃ

 

‘হজ’ অর্থ কোনো মহৎ কাজের ইচ্ছা করা।

হজের নিয়তসহ ইহরাম ধারণ করে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা এবং কাবা শরিফ তাওয়াফ করাকে হজ বলে।

(ফাতাওয়া    শামি : ২/৪৫৪)

‘ওমরাহ’ অর্থ পরিদর্শন করা। ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে তাওয়াফ ও সায়ি করে মাথা কামিয়ে ইহরামমুক্ত হওয়াকে ওমরাহ বলে।

(ফাতহুল বারি : ৩/৫৯৭)

হজের ফজিলত;

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।

আর মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি : ১/২০৬)

 

হজ না করার পরিণতি;

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করা ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করার নামান্তর।’

(তিরমিজি : ১/১৬৭)

 

হজের সময় ও তার নির্ধারিত স্থান;

হজের নির্দিষ্ট সময় শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন। বিশেষত ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন।

এই পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়।

হজের নির্ধারিত স্থান কাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা। (আসান ফিকাহ : ২/২৫১)

 

হজের প্রকারভেদ;

১.  ইফরাদ : শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজকার্য সম্পন্ন করা।

২.  তামাত্তু : শুধু ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওমরাহর কাজ সমাপ্ত করে মাথা মুণ্ডন করে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া। অতঃপর ওই সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজকার্য সম্পাদন করা।

৩.  কিরান : একসঙ্গে ওমরাহ ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ পালন করা। এই তিন প্রকারের মধ্যে উত্তম হলো কিরান।

কিন্তু ইহরাম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞাবলি সঠিকভাবে মেনে চলতে না পারার আশঙ্কা থাকলে হজে তামাত্তুই উত্তম।

(ফাতাওয়া শামি : ২/৫২৯)

 

হজ ও জাকাতের ফরজের পার্থক্য;

জাকাত ফরজ ও হজ ফরজের মধ্যে পার্থক্য হলো, জাকাত সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর এক বছর গত হলে ফরজ হয়।

এর মধ্যে যদি বছর শেষ হওয়ার পূর্বে সম্পূর্ণ সম্পদ ধ্বংস হয়ে যায় বা জাকাতের নির্ধারিত পরিমাণ থেকে কম হয়ে যায়।

তাহলে জাকাত ওয়াজিব হবে না।

তবে হ্যাঁ, যদি সম্পদ নিসাব (জাকাত ফরজ হওয়া পরিমাণ) পরিমাণ হয়ে বছর গত হয়, তখন জাকাত ওয়াজিব হবে।

এভাবে যতকাল পর্যন্ত জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ বহাল থাকবে, প্রতিবছর জাকাত আদায় করতে হবে।

পক্ষান্তরে হজ হওয়ার বিষয়ে বক্তব্য হলো,

মক্কা শরিফে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া, কোরবানি ইত্যাদি যাবতীয় খরচ করার ক্ষমতা থাকা। এবং বাড়ি ফেরা পর্যন্ত পরিবারের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার ক্ষমতা কারো থাকলে তার ওপর হজ ফরজ হয়।

এই পরিমাণ অর্থের মালিক যদি জীবনে একবারও হয়, এরপর তা কোনো কাজে ব্যয় হয় অথবা চুরি হয়ে যায়। তাহলেও হজের ফরজ তার ওপর বহাল থাকবে।

এমনকি ভবিষ্যতে মৃত্যু পর্যন্তও যদি সে এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে সক্ষম না হয়, তাহলে হজের ফরজ তার জিম্মায় বহাল থাকবে।

মৃত্যুর সময় অসিয়ত করে যাওয়া তার জন্য আবশ্যক হবে। যেন তার মৃত্যুর পর তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে শরিয়ত মোতাবেক বদলি হজ করানো হয়।

তা ছাড়া হজ সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার ফরজ হয় আর জাকাত সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রতিবছর ফরজ হয়।

(মুকাম্মাল মুদাল্লাল মাসায়েলে হজ—- ও উমরাহ : ৫৪)

 

বিনা অনুমতিতে কম্পানির গাড়িতে হজ;

কম্পানির অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তির জন্য কম্পানির গাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার করে হজ করা জায়েজ হবে না।

(আপকে মাসায়েল : ৪/১৬০)

 

হজে আকবর কী;

জুমার দিনের হজকে হজে আকবর বলা হয়। এটা সাধারণ মানুষের পরিভাষা।

কোরআনে হজে আকবর শব্দটি ওমরাহর বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে।

ফিকহ গ্রন্থ রদ্দুল মুহতারে জুমার দিন হজ হলে (আরাফার ময়দানে অবস্থান) ৭০ গুণ বেশি সওয়াব হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাবরানিতে বর্ণিত এসংক্রান্ত হাদিসের বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। (ফতোয়ায়ে দারুল উলুম : ৬/৫৪৩)

 

বাণিজ্যিক হজ;

বর্তমানে কিছু লোক প্রতিবছর হজে যায়। তাদের হজ এক ধরনের বাণিজ্যিক হজ হয়ে থাকে।

তারা নিজ দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও পণ্যসামগ্রী নিয়ে যায়। এবং সেখানে চড়া লাভে বিক্রি করে আর ফেরার পথে সেখান থেকে পণ্যসামগ্রী এনে দেশে বিক্রি করে।

এমন ব্যক্তির ব্যাপারে শরিয়তের বিধান হলো, হজের সময় ব্যবসা-বাণিজ্য করার বিষয়ে কোরআনুল কারিম অনুমতি দিয়েছে।

কিন্তু হজের সফরের উদ্দেশ্যই যদি হয় বাণিজ্য, তাহলে সে তার নিয়ত পরিমাণ প্রতিদান পাবে। (আপকে মাসায়েল : ৪/৩২)

 

জীবনে একবার হজ ফরজ হওয়ার রহস্য;

জাকাত প্রতিবছর ফরজ হলেও হজ কেন একবারই ফরজ হয়? প্রথম উত্তর হলো, কোরআন-হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত আহকামগুলোর কারণ ও রহস্য তালাশ করা ঈমানের দুর্বলতার পরিচয়।

দ্বিতীয়ত, যুক্তির দিক থেকে সমস্ত আমল পুনর্বার না হওয়া উচিত।

কিন্তু ‘আমর’ বা আদেশের পুনরাবৃত্তির কারণে ফরজটিও পুনর্বার হয়েছে। হজ ফরজ হওয়ার কারণ হলো বায়তুল্লাহ।

যেহেতু কাবা একটি, তাই হজও একবার ফরজ হয়। তৃতীয়ত, হজের মধ্যে অন্যান্য ইবাদতের তুলনায় কষ্ট বেশি।

এ জন্য হজকে জিহাদ বলা হয়েছে। ঋতুবতী নারীকে নামাজ ও রোজার ক্ষেত্রে অবকাশ দেওয়া হয়েছে।

(আহসানুল ফতোয়া : ৪/৫৫১)

 

হজে মহিলাদের জন্য মাহরাম পুরুষের শর্ত কেন;

মাহরাম পুরুষ ব্যতীত মহিলাদের তিন দিন বা তার চেয়ে বেশি দূরের সফর করতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিষেধ করেছেন।

কারণ এই দীর্ঘ সফরে তার নিজের সম্মান-সতীত্ব রক্ষা করা একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।

এ ছাড়া কোনো দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার শিকার হলে তখন তার সেবা-যত্নের প্রয়োজন হতে পারে। তখন কোনো মাহরাম পুরুষ না থাকলে সমস্যা হতে পারে।

(আপকে মাসায়েল : ৪/৮০)

 

সম্পত্তি বন্ধক রেখে হজ করা যাবে কি না;

যদি কারো ওপর হজ ফরজ হয়, সে ঋণ করে হজ করতে পারে।

কিন্তু বন্ধকের বিষয়টি ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। যার কাছে বন্ধক রাখা হবে, সে যদি জমির আয় ভোগ করে, তাহলে বন্ধক রাখা জায়েজ হবে না।

আর যদি সে জমির উৎপাদন ভোগ না করে তাহলে বৈধ। (রদ্দুল মুখতার : ৫/৪৬২)

 

প্রথমে হজ করবে, নাকি ঘর তৈরি করবেঃ

গ্রহণযোগ্য মতে, হজ ওয়াজিব হলে তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। সুতরাং যদি কারো ওপর হজ ওয়াজিব হয়।

তাহলে তার অর্থ দাঁড়ায়, গত বছর বা তার আগে কোনো বছর হজের সময় আপনার কাছে হজ আদায় করার মতো যথেষ্ট অর্থ ছিল।

এখন এই অর্থ খরচ করা জায়েজ হবে না। যদি হজের সময় কারো কাছে টাকা না থাকে,

বরং হজের পর টাকা আসে অথবা সব সময় হজের আগেই টাকা আসে এবং খরচ হয়ে যায়।

তাহলে এ অবস্থায় এই টাকা দ্বারা ঘর নির্মাণ করা যাবে। (ইমদাদুল আহকাম : ১/১৫৮)

 

সরকারি দায়িত্ব পালনকারীর হজঃ

যদি কোনো ব্যক্তিকে সরকারি কোনো দায়িত্ব পালনের জন্য পাঠানো হয় এবং তিনি হাজিদের সেবা করার পাশাপাশি নিজেও হজের বিধানগুলো পালন করেন, তাহলে তাঁর হজ শুদ্ধ হবে।

উপরন্তু তিনি দ্বিগুণ সওয়াব লাভ করবেন—হজের সওয়াব এবং হাজিদের খিদমত করার সওয়াব। (আপকে মাসায়েল : ৪/৩৯)

 

বিত্তবান হওয়ার পর দ্বিতীয় হজ;

হজ ফরজ হওয়া পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার আগে যদি কোনো ব্যক্তি হজ করে এবং পরে সে ফরজ হওয়া পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়।

তাহলে তার দ্বিতীয়বার হজ করা আবশ্যক হবে না।

কেননা প্রথম হজের দ্বারা তার ফরজ আদায় হয়ে গেছে। এখন সামর্থ্য থাকলে সে দ্বিতীয়বার হজ করবে এবং তা তার জন্য নফল হবে।

(রদ্দুল মুহতার : ২/৩৩২)

 

আপনার ওপর কি হজ ফরজ;

কারো ওপর জাকাত ফরজ না হয়েও তার ওপর হজ ফরজ হতে পারে। কেননা হজ ও জাকাতের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে।

হজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য হলো, জাকাতের সম্পর্ক নির্ধারিত নিসাবের সঙ্গে।

হজের সম্পর্ক মক্কায় আসা-যাওয়ার খরচের সঙ্গে। সুতরাং স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রি করে কেউ যদি হজ আদায় করতে সক্ষম হয়।

এবং হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। তাহলে তার ওপর হজ ফরজ।

ইমদাদুল আহকাম : ২/১৫২; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫১৬) একইভাবে ব্যবসায়ীর দোকানে যে পরিমাণ পণ্য আছে,

তার কিছু অংশ বিক্রি করলে যদি হজ করা সম্ভব হয় এবং ফিরে এসে যদি বাকি পণ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায়।

তাহলে তার ওপরও হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৫৩)

 

অবৈধভাবে দখল করা সম্পদ দ্বারা হজ করা যাবে কি না;

অন্যের সম্পদ জবরদখল করে মালিক হওয়া কবিরা গুনাহ ও মারাত্মক অপরাধ। তাই ওই ব্যক্তি হজের লাভ ও উদ্দেশ্য থেকে বঞ্চিত হবে।

কারণ হাদিস শরিফে আছে, এক ব্যক্তি বহুদূর থেকে সফর করে বায়তুল্লাহ শরিফে পৌঁছে, যার চুলগুলো এলোমেলো এবং শরীর ময়লাযুক্ত,

সে সেখানে ‘হে আমার প্রতিপালক! হে আমার প্রতিপালক! বলে চিৎকার করে দোয়া করে, অথচ তার অন্ন, বস্ত্র ও খাদ্যসামগ্রী—সবই হারাম।

তাহলে কিভাবে তার দোয়া কবুল হবে? অতএব, হজে যাওয়ার আগে নিচের বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

১. কারো কোনো হক বা পাওনা থাকলে তা আদায় করা।

২. কারো আমানত (গচ্ছিত সম্পদ) থাকলে তা পরিশোধ করা।

৩. কারো কোনো জিনিস অবৈধভাবে দখল করলে বা আটকে রাখলে তা ফেরত দেওয়া, অন্যথায় তা শুধু নামের হজ হবে।

(ফতোয়ায়ে রহিমিয়া : ৩/১১৬)

 

ঘুষখোর ব্যক্তির হজ আদায় হবে কি নাঃ

কোনো ব্যক্তির বেতন হালাল এবং সে ঘুষ গ্রহণ করে, তাহলে সে যদি বেতনের টাকায় হজ করে তার হজ বৈধ হবে।

তবে হজ কবুল হওয়ার জন্য হারাম উপার্জন ঘুষ খাওয়া থেকে তাওবা করতে হবে।

কারণ হাদিসে আছে, যে শরীরের খাদ্য হারাম, জাহান্নামের আগুন তার বেশি উপযোগী।

আর যদি ঘুষের অর্থ দিয়ে হজ করা হয়, তাহলে তা জায়েজ হবে না। কারণ ঘুষের টাকা মালিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া আবশ্যক।

(আপকে মাসায়েল : ৪/৪২-৩)

 

প্রথমে নিজে হজ করবে, নাকি মা-বাবাকে হজ করাবে;

সন্তান যদি মা-বাবাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে হজে যেতে সক্ষম হয় তাহলে সঙ্গে নিয়ে যাবে, অন্যথায় শুধু নিজের ফরজ আদায় করবে।

কেননা মা-বাবাকে হজ করানো সন্তানের ওপর আবশ্যক নয়।

প্রথমে মা-বাবাকে হজ করানো কোনো শরয়ি হুকুম নয়।

তবে হ্যাঁ, সক্ষমতা থাকলে মা-বাবাকেও হজ করানোর নিয়ত রাখবে এবং চেষ্টা করতে থাকবে।

(ফতোয়ায়ে রহিমিয়া : ৮/২৮২)

 

চাকরি রক্ষার জন্য হজ বিলম্ব করা;

কোনো ব্যক্তি যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, যে প্রতিষ্ঠানে হজের জন্য ছুটি চাইলে চাকরি চলে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

চাকরি রক্ষার জন্য সে হজে বিলম্ব করলে গুনাহ হবে না।

কেননা বিনা কারণে হজ বিলম্ব করা গুনাহ আর গ্রহণযোগ্য কারণে বিলম্ব হলে কোনো গুনাহ নেই।

মাওলানা আশরাফ আলী থানভি (রহ.) বলেন, ‘আমার মতে, জীবিকার চিন্তা ও সমস্যা অপারগতা হিসেবে গণ্য হবে।’

(ইমদাদুল আহকাম : ২/১৬৪)

 

হজ কার ওপর ফরজঃ

প্রাপ্তবয়স্ক,সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে, এমন মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

তবে নারীদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শর্ত। (ফাতাওয়া শামি : ২/৪৫৫)

যাদের সঙ্গে কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায় না, তারাই মাহরাম।

যেমন—পিতা, পুত্র, আপন ও সত্ভাই, দাদা-নানা, আপন চাচা ও মামা, ছেলে বা নাতি, জামাতা, শ্বশুর, দুধভাই, দুধছেলে প্রমুখ।

তবে একা একা দুধভাইয়ের সঙ্গে এবং যুবতি শাশুড়ির জামাতার সঙ্গে যাওয়া নিষেধ। (রদ্দুল মুহতার : ২/৪৬৪)

হজ ফরজ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে—এক. মুসলিম হওয়া। দুই. বিবেকবান হওয়া, পাগল না হওয়া। তিন. বালেগ হওয়া, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া।

চার. আজাদ বা স্বাধীন হওয়া, অর্থাৎ কারো গোলাম বা দাস না হওয়া। পাঁচ. দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া।

 

বায়তুল্লাহ শরিফ দেখলে কি হজ ফরজ হয়;

যে ব্যক্তি নিজে হজ করেনি, তার জন্য বদলি হজ করা মাকরুহ তথা অনুত্তম।

আর এমন ব্যক্তি যখন কাবা শরিফে পৌঁছে, কাবাঘর দেখে তার জন্য হজ ফরজ হয় না।

কারণ বদলি হজ পালনকারী অন্যের ইহরাম বাঁধা অবস্থায় থাকে। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৯৯)

 

ব্যবসায়ীদের জন্য হজ কখন ফরজঃ

ব্যবসায়ীর দোকানে যে পরিমাণ পণ্য আছে, তার থেকে যদি হজের ব্যয় পরিমাণ পণ্য বিক্রি করার পর এই পরিমাণ পুঁজি অবশিষ্ট থাকে,

যা দিয়ে ব্যবসা করে সে পরিবার-পরিজন নিয়ে মধ্যম অবস্থায় জীবিকা নির্বাহ করতে পারে,

তাহলে তার জন্য হজের ব্যয় পরিমাণ পণ্য বিক্রি করা আবশ্যক এবং তার ওপর হজ ফরজ।

আর যদি অবশিষ্ট পুঁজি দিয়ে ব্যবসা করে পরিবার না চলে, তাহলে হজ ফরজ হবে না।

এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, তার জীবিকা নির্বাহের মাধ্যম একমাত্র ওই ব্যবসাই হতে হবে। (ইমদাদুল আহকাম : ২/১৫৩)

 

সম্পদ ব্যয় বা নষ্ট হয়ে গেলে হজ কি রহিত হবে;

যদি কোনো ব্যক্তির কাছে হজের সময় ছাড়া অন্য সময়ে হজ ফরজ হওয়ার পরিমাণ সম্পদ থাকে।

কিন্তু হজের মৌসুম আসার আগেই ওই সম্পদ নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ হবে না।

অথবা হজের সময়ও তার কাছে হজ ফরজ হওয়া পরিমাণ সম্পদ ছিল এবং হজে যাওয়ার ইচ্ছাও করেছিল।

কিন্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে সে সম্পদ নষ্ট হয়ে গেল, ওই ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হবে না।

তবে সে যদি স্বেচ্ছায় হজের মৌসুম আসার পর ওই অর্থ এমন খাতে ব্যয় করে দেয়, যেখানে ব্যয় করা শরিয়তের হুকুম ছিল না।

তাহলে তার ওপর হজ ফরজ হবে। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া : ৩/১৭৯)

 

স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে হজ করার বিধানঃ

যার কাছে নগদ অর্থ নেই, কিন্তু স্থাবর সম্পত্তি আছে; এমন ব্যক্তির জন্য হজের বিধান হলো—

সে কিছু সম্পদ যদি বিক্রি করে হজ পালন করে এবং অবশিষ্ট সম্পদ তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট হয়। তার জন্য জমি বিক্রি করে হজ করা ফরজ।

আর যদি হজের ব্যয় পরিমাণ জমি বিক্রি করার পর অবশিষ্ট জমি তার ও তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য যথেষ্ট না হয়। তাহলে তার ওপর হজ ফরজ নয়।

একইভাবে যদি কারো স্থাবর সম্পত্তি এই পরিমাণ হয় যে তার আয় ও উৎপাদন তার ও পরিবারের বার্ষিক ব্যয়ের অতিরিক্ত হয় না।

ওই ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ নয়; জমি বিক্রি করাও তার জন্য ফরজ নয়। (আহসানুল ফতোয়া : ৪/৫১৬)

 

শিশুদের হজ;

হজ বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়ার পরই ফরজ হয়। কিন্তু যেমনভাবে বাচ্চাদের রোজা-নামাজ গ্রহণযোগ্য, তেমনিভাবে তাদের হজও শুদ্ধ হবে।

শিশু একেবারেই ছোট হোক, যার বিবেকবুদ্ধি থাকে না অথবা সে বুদ্ধি ও বিবেকসম্পন্ন হোক।

মুসলিম শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন,

এক মহিলা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি শিশু নিয়ে এলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন,

হে আল্লাহর রাসুল! এই বাচ্চারও কি হজ আছে? আল্লাহর রাসুল উত্তর দিলেন, হ্যাঁ! তবে এর সওয়াব তুমি পাবে।

এই হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হলো, বাচ্চাদের হজ শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য।

তবে বাচ্চাদের হজের সওয়াব এবং প্রতিদান পিতা-মাতা এবং অভিভাবক পেয়ে থাকেন। সায়েব ইবনে ইয়াজিদ (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমার বয়স তখন ৭।

আমার আব্বা-আম্মা আমাকে সাথে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হজ পালন করেছেন।’

বাচ্চাদের ওপর যেহেতু হজ ফরজ নয়, এ জন্য তাদের হজ নফল বলে গণ্য হবে।

বালেগ হওয়ার পর যদি তার হজ ফরজ হয়, তাহলে ফরজ হজের নিয়ত করে তাকে পুনরায় হজ পালন করতে হবে।

হজ পালনকারী ছেলে বা মেয়ে খুব ছোট বয়সের হলে এবং বিবেকবুদ্ধি না হলে তার পক্ষ থেকে তার পিতা-মাতা ইহরামের নিয়ত করবে।

এই ইহরাম ওয়াজিব নয়। তবে ইহরামের নিয়ত না করলেও কোনো অসুবিধা নেই।

এরপর তাদের পক্ষ থেকে অভিভাবকই হজের সব কাজ সম্পাদন করবে এবং বাচ্চাদের সেসব কাজ থেকে বিরত রাখবে। যা একজন ইহরামধারী পুরুষ বা মহিলার বিরত থাকতে হয়।

তাওয়াফের মধ্যে তাদের শরীর ও কাপড় পবিত্র রাখার চেষ্টা করবে।

কিন্তু যদি ইহরামপরিপন্থী কোনো কাজ হয়ে যায়। তখন শিশু বা তার অভিভাবকের ওপর কোনো ‘দম’ (পশু জবাই করা) ওয়াজিব হবে না।

পক্ষান্তরে যদি শিশু বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন হয়, তাহলে সে মাতা-পিতার বা অভিভাবকের অনুমতি নিয়ে ইহরাম বাঁধবে।

অজু ও পাক-পবিত্রতার প্রতি লক্ষ রাখবে এবং সেসব বিষয়ের প্রতি পুরো যত্নবান থাকবে। যেগুলোর প্রতি একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ বা মহিলা যত্নবান থাকে।

আর যেসব কাজ বাচ্চা নিজে আদায় করতে পারে না, যেমন পাথর নিক্ষেপ ইত্যাদি, সেগুলো অভিভাবক তার পক্ষ থেকে আদায় করে দেবে।

কিন্তু আরাফার ময়দানে অবস্থান, মিনা ও মুজদালিফায় রাত্রি যাপন, তাওয়াফ ও সায়ি ইত্যাদি সে নিজেই আদায় করবে।

যদি আদায় করতে না পারে, তখন অভিভাবক তাকে কোলে বা কাঁধে নিয়ে তাওয়াফ ও সায়ি করাবে।

তাওয়াফ ও সায়ি করানোর সময় নিজের এবং বাচ্চার উভয়ের নিয়ত করাবে। তাহলে উভয়ের পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে।

 

বাংলা চলচ্চিত্র/banglacholochitra/জীবনযাপন, তথ্য- কালের কণ্ঠ/মুফতি তাজুল ইসলাম, ছবি- সংগৃহীত।

Leave a comment.

Your email address will not be published. Required fields are marked*