সন্ধ্যা ৬:২১ | ১০ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ সোমবার হেমন্তকাল | ২৬শে অক্টোবর, ২০২০ ইং
Smiley face
বাংলা চলচ্চিত্র ২০১৯-১২-১৯
kholil- bangla cholochitra

শেয়ার করুন

বাংলা চলচ্চিত্র/ সোনালী অতীতঃ

 

খলিল পুরো নাম আবুল ফজল মোহম্মদ খলিল উল্লাহ খান। একজন খ্যাতিমান অভিনেতা-প্রযোজক ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর বাবা পুলিশ অফিসার ছিলেন বলে তাকে সিলেট, কৃষ্ণনগর, বগুড়া, বর্ধমান, নোয়াখালী থাকতে হয়েছে।
খলিলের শৈশব জীবন কেটেছিল এসব জেলাতেই।
১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫১তে মদনমোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে সিলেট মুরারিচাঁদ কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে আর্মি কমিশনে যোগ দিয়ে কোয়েটাতে চলে যান। ১৯৫২তে ফিরে এসে আনসার এডজুট্যান্ট হিসেবে যোগ দেন।

দীর্ঘদিন সাসপেন্ড থাকার পর তা উইড্র হয় ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে। ১৯৯২তে আনসার থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

খলিল ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে ‘সোনার কাজল’ ছবিতে প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয় শুরু করেন, ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬২তে।

পরিচালক ছিলেন জহির রায়হান ও কলিম শরাফি। ছবিতে দু’জন নায়িকা ছিলেন, একজন সুমিতা দেবী, অপরজন সুলতানা জামান। চলচ্চিত্রে আসার পূর্বে বেশ কয়েকটি মঞ্চ নাটকেও অভিনয় করেন।
এরপর নায়ক হিসেবে তিনি একে একে অভিনয় করেন, প্রীত না জানে রীত ১৯৬৩, ‘সংগম’ ১৯৬৪, কাজল (১৯৬৫), ক্যায়সে কঁহু (১৯৬৫), ভাওয়াল সন্ন্যাসী (১৯৬৫), বেগানা (১৯৬৬), পুনম কি রাত (১৯৬৬), উলঝান (১৯৬৭), জংলী ফুল (১৯৬৮) প্রভৃতি ছবিতে। নায়ক হিসেবে খলিলের শেষ ছবি ‘জংলী ফুল’।
তিনি এস এম পারভেজ পরিচালিত ‘বেগানা’ ছবিতে প্রথম খলনায়ক হিসেবে অভিনয় করেন।

‘উৎসর্গ’ এবং ‘এখানে আকাশ নীল’ ছবি ২টির মাধ্যমে খলিল চরিত্রাভিনেতা রূপে আত্মপ্রকাশ করেন এবং একজন জাঁদরেল অভিনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।

বিভিন্ন ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে রূপদান করেন এবং দর্শকপ্রিয়তা পান।সেসব ছবি’র মধ্যে, সমাপ্তি, ধীরে বহে মেঘনা, তানসেন, নদের চাঁদ, পাগলা রাজা, বেঈমান, অলঙ্কার, বাদী থেকে বেগম, বাদশা, উৎসর্গ, কন্যবদল, রজনীগন্ধা, মিন্টু আমার নাম, ফকির মজনুশাহ, মেঘের পরে মেঘ, ওরা ১১ জন, এপার ওপার, দস্যুবনহুর, আগুন, সংগ্রাম, আলোর মিছিল, গুন্ডা, আয়না, মাসুদ রানা, মধুমতি, ওয়াদা, সূর্যসংগ্রাম, মনিহার, ভাই ভাই, বিনি সুতার মালা, মাটির পুতুল, যৌতুক, সোনার চেয়ে দামি, পূর্ণমিলন, দ্বীপ কন্যা, সুখে থাকো, মাটির ঘর, বদনাম, অভিযান, মৌচোর, কার বউ, বউ কথা কও, দিদার, আওয়াজ, নবাব, সৎভাই, লড়াকু, অভিযোগ, নবাব সিরাজ উদ্দৌলা (রঙিন), বীরপুরুষ, দোলনা, দুর্নাম, সাজানো বাগান, ঘাতক, ভণ্ড, এই ঘর এই সংসার অন্যতম।
খলিল ‘গুন্ডা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে, শ্রেষ্ঠ পার্শ্বঅভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হন ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে।

দু’টি ছবি প্রযোজনা করেছিলেন তিনি। একটি ‘সিপাহী’ অন্যটি ‘এই ঘর এই সংসার’।

আশির দশকে টেলিভিশন পর্দায় আসেন এই কিংবদন্তী অভিনেতা খলিল। তাঁর অভিনীত অন্যান্য নাটকের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, আব্দুল্লাহ আল মামুনের ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’।
এই নাটকে তিনি মিয়ার বেটা চরিত্রে অভিনয় করে টেলিভিশন দর্শকদের মাঝে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

এই শক্তিমান ও দেশবরেণ্য অভিনেতা ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর, ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন।

 

বাংলা চলচ্চিত্র/banglacholochitra/সোনালী অতীত

সূত্র- অনলাইন নিউজ

কৃতজ্ঞতা- আজাদ আবুল কাশেম

Leave a comment.

Your email address will not be published. Required fields are marked*